জাতীয় সংসদে সদ্য পাস হওয়া ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল, ২০২৬’–এর প্রতিবাদে আগামী শুক্রবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। বাবা-মায়ের সুরক্ষার নামে প্রণীত এই বিল মুসলিম সমাজের উত্তরাধিকারব্যবস্থা বা ফারায়েজ এবং বিশেষ করে নারীদের প্রাপ্য অধিকারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে বলে দাবি করেছেন দলটির আমির মাওলানা মামুনুল হক।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথ সভায় তিনি এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে ঢাকা মহানগর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘বাবা-মায়ের ভরণপোষণ নিশ্চিত করার জন্য দেশে ২০১৩ সালের আইন রয়েছে। একজন বাবা-মা আগেও চাইলে সন্তানকে হেবা বা বৈধ উপায়ে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারতেন। তাহলে নতুন করে সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ কেন আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে, সরকারকে তার জবাব দিতে হবে।’ অবিলম্বে এই বিল বাতিলের দাবি জানান তিনি।
খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, মুসলমানের উত্তরাধিকার কোনো সামাজিক রীতি বা পারিবারিক সমঝোতার বিষয় নয়; এটি আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। জীবিত অবস্থায় সম্পত্তি হস্তান্তরের প্রবণতা এমন পর্যায়ে গেলে মৃত্যুর পর ফারায়েজ বণ্টনের জন্য কোনো সম্পত্তিই অবশিষ্ট থাকবে না। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যে সমাজে মেয়েরা এমনিতেই ফারায়েজ অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, সেখানে এই আইনের ফলে মেয়েরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
শরিয়াহর বিধানকে রাষ্ট্রীয় আইনের ঐচ্ছিক বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করার প্রবণতাকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে মামুনুল হক বলেন, সংসদে পাস হওয়া বিলটি ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞ ও আলেমদের মাধ্যমে পুনরায় পর্যালোচনা ও প্রয়োজনে সংশোধন করতে হবে। এ সময় তিনি জনগণের ধর্মীয় অধিকার ও মুসলিম উত্তরাধিকারব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিলে স্বাক্ষর না করার জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল হক, মাওলানা কুরবান আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শরাফত হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল প্রমুখ। এ ছাড়া সভায় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
